সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

BengaliSpiritual লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মহালক্ষ্মীর রূপ, প্রতীক ও গোপন আধ্যাত্মিক অর্থ

  মহালক্ষ্মীর রূপ, প্রতীক ও গোপন আধ্যাত্মিক অর্থ পুরাণ অনুসারে, দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনের সময় ক্ষীরসাগর থেকে মহালক্ষ্মীর আবির্ভাব ঘটে। তাঁর অতুলনীয় সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যে মুগ্ধ হয়ে দেবতারা তাঁকে প্রণাম করেন এবং তিনি ভগবান বিষ্ণুকে স্বামীরূপে বরণ করেন। সেই থেকে তিনি জগতের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির দেবী হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন। হিন্দু ধর্মে মহালক্ষ্মী হলেন ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য, শান্তি ও কল্যাণের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তিনি হলেন ভগবান বিষ্ণুর সহধর্মিণী এবং সৃষ্টির রক্ষণ ও পালনের শক্তির প্রতীক। শাস্ত্র মতে, যেখানে ধর্ম, সততা ও ভক্তি থাকে, সেখানেই মা লক্ষ্মীর কৃপা বিরাজ করে।  মহালক্ষ্মীর রূপের বৈশিষ্ট্য : পদ্মাসনা -  মা লক্ষ্মী সাধারণত প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের উপর আসীন অবস্থায় বিরাজ করেন। পদ্ম পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক। চারটি হাত - মহালক্ষ্মীর চারটি হাত মানুষের জীবনের চারটি প্রধান লক্ষ্য বা পুরুষার্থ নির্দেশ করে— ধর্ম (নৈতিকতা) অর্থ (সম্পদ) কাম (ইচ্ছা ও সুখ) মোক্ষ (মুক্তি) স্বর্ণমুদ্রার বর্ষণ - তাঁর এক হাত থেকে স্বর্ণমুদ্রা প্রবাহিত হতে দেখা য...

কলিযুগে কাল ভৈরবের গুরুত্ব

  কলিযুগে কাল ভৈরবের গুরুত্ব                                                                   । ।  জয় শ্রী কাল ভৈরব। ।   কাল ভৈরব হলেন মহাদেব শিবের এক শক্তিশালী ও উগ্র রূপ, যিনি ধর্মরক্ষা, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সময়ের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। "কাল" অর্থ সময় এবং "ভৈরব" অর্থ ভয় নাশকারী। তাই কাল ভৈরব সেই দেবতা, যিনি ভক্তদের সকল ভয় ও বাধা থেকে রক্ষা করেন। কলিযুগে, যখন মানুষের জীবনে অস্থিরতা, লোভ, ভয় ও বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়ছে, তখন কাল ভৈরবের উপাসনার গুরুত্ব আরও বেশি। তিনি আমাদের শেখান সময়ের মূল্য, সত্যের পথে চলার সাহস এবং অহংকার ত্যাগের শিক্ষা। শাস্ত্রে কাল ভৈরবকে ধর্মের রক্ষক ও সাধকদের অভিভাবক বলা হয়েছে। তাঁর কৃপায় ভক্তের মনে আত্মবিশ্বাস, মানসিক শক্তি এবং আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যারা মহাদেবের উপাসক, তাঁদের কাছে কাল ভৈরব হলেন এ...

মা চণ্ডীর অষ্টরূপ: কেন ভক্তরা আজও করেন এই শক্তির আরাধনা?

  || দেবীর অষ্টচণ্ডী - মহাশক্তির আট রূপ || সনাতন ধর্মে দেবী চণ্ডী হলেন আদ্যাশক্তির এক উগ্র ও তেজোময় প্রকাশ। যখন অধর্ম, অন্যায় ও অশুভ শক্তির প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়, তখন দেবী নানা রূপে আবির্ভূত হয়ে ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করেন। এই শক্তিরই বিশেষ প্রকাশ হল অষ্টচণ্ডী , অর্থাৎ দেবীর আটটি চণ্ডী রূপ। অষ্টচণ্ডীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপগুলি হল— উগ্রচণ্ডা , প্রচণ্ডা, চণ্ডোগ্রা, চণ্ডনায়িকা, চণ্ডা, চণ্ডবতী, চণ্ডরূপা এবং অতিচণ্ডিকা । এই আটটি রূপ দেবীর শক্তি, সাহস, রক্ষা, জ্ঞান ও অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শক্তি ও তন্ত্রসাধনায় অষ্টচণ্ডীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবীর এই রূপগুলির আরাধনা জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর করে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ সুগম করে। অষ্টচণ্ডী কেবল বাহ্যিক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক নয়, মানুষের অন্তরে থাকা ভয়, লোভ, ক্রোধ ও অজ্ঞানের বিরুদ্ধেও এক চিরন্তন শক্তির প্রতীক। আজকের যুগেও অষ্টচণ্ডীর শিক্ষা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহস, ধৈর্য ও সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা আমরা এই মহাশক্তির রূ...

৩ ) নলহাটেশ্বরী শক্তিপীঠ : বীরভূমের বুকে সতীর নলাস্থির মহাতীর্থ

নলহাটেশ্বরী শক্তিপীঠ : বীরভূমের বুকে সতীর নলাস্থির মহাপীঠ ভারতবর্ষের শক্তি উপাসনার ইতিহাসে একান্ন শক্তিপীঠের গুরুত্ব অপরিসীম। এই শক্তিপীঠগুলি শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, বরং আধ্যাত্মিক সাধনা, তন্ত্রচর্চা এবং মাতৃশক্তির প্রকাশের চিরন্তন কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত নলহাটেশ্বরী শক্তিপীঠ এমনই এক পবিত্র তীর্থ, যেখানে দেবী সতীর নলা বা কণ্ঠনালীর অস্থি পতিত হয়েছিল বলে শাস্ত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পীঠ ভক্ত, সাধক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে ভক্তি, বিশ্বাস এবং শক্তিসাধনার এক মহাকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। শক্তিপীঠের উৎপত্তি : সতীর অঙ্গপতনের কাহিনি নলহাটেশ্বরী শক্তিপীঠের ইতিহাস জানতে হলে ফিরে যেতে হয় সেই সুপরিচিত পৌরাণিক ঘটনায়, যা শক্তিপীঠগুলির জন্মের মূল উৎস। রাজা দক্ষ প্রজাপতি এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কন্যা দেবী সতী -র স্বামী ভগবান শিব -কে তিনি আমন্ত্রণ জানাননি। পিতৃগৃহে গিয়ে শিবের অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী যজ্ঞকুণ্ডে আত্মাহুতি দেন। সতীর মৃত্যুতে শিব শোকে উন্মত্ত হয়ে তাঁর দেহ কাঁধে নিয়ে মহাতাণ্ডব শুরু করেন। তখন সৃষ্টির ভারসাম্য রক...

শরতে জাগ্রত চণ্ডী

|| শরতে জাগ্রত চণ্ডী || দূর থেকে অপার এক সৌন্দর্য, যা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই বড় কঠিন। পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে নীল আকাশ জুড়ে, কাশফুলের শুভ্র ঢেউ যেন প্রকৃতির নিজস্ব অলংকার হয়ে উঠেছে। দূর দিগন্তের ওপার থেকে খুব ধীরে ধীরে ভেসে আসছে ঢাকের বাদ্য—সুমিষ্ট শরতের বাতাসের সঙ্গে মিশে সেই সুর এসে নিঃশব্দে স্পর্শ করে যায় হৃদয়কে। মনে করিয়ে দেয় সেই প্রাচীন রাজবাড়ির কথা, যেখানে প্রতি বছর মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় দেবী চণ্ডীর পূজা। সময়ের বহু অধ্যায় পেরিয়েও আজও যেন সেই রাজবাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি অলিন্দ বহন করে চলেছে ইতিহাসের গন্ধ। সন্ধ্যার আলোর মৃদু আভায় যখন রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে একে একে জ্বলে ওঠে প্রদীপ, তখন মনে হয় যেন অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনির পবিত্র সুরে আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে চারপাশ হয়ে ওঠে এক অলৌকিক অনুভূতির আধার। দেবী চণ্ডী হিন্দু ধর্মে শক্তির এক মঙ্গলময় রূপ হিসেবে পূজিতা। তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়ারই এক প্রকাশ, যিনি অসুর শক্তির বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত “শ্রীশ্রী চণ্ডী” বা “দে...

ব্রহ্মসংহিতা- Brahma Samhita Slokas

  ব্রহ্মসংহিতা আজকে আমি আপনাদের সামনে আনতে চলেছি ব্রহ্মসংহিতা -তে উল্লিখিত এক অপূর্ব মধুর শ্লোক— “ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ । অনাদিরাদির্ গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্ ॥” পরম ঈশ্বর হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর দিব্য রূপ সৎ (চিরন্তন), চিৎ (চেতনাময়) এবং আনন্দময়। তিনি অনাদি, অর্থাৎ তাঁর কোনো শুরু নেই; অথচ তিনিই আবার সকল সৃষ্টির আদি কারণ। সেই গোবিন্দই সমগ্র জগতের “সর্বকারণের কারণ” — সমস্ত সৃষ্টি, শক্তি ও অস্তিত্বের মূল উৎস। চিন্তামণি-প্রকর-সদ্মসু কল্পবৃক্ষ- লক্ষাবৃতেষু সুরভীরভিপালয়ন্তম্ । লক্ষ্মী-সহস্র-শত-সম্ভ্রম-সেব্যমানং গোবিন্দং আদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥ আমি সেই আদিপুরুষ শ্রীগোবিন্দকে ভজনা করি, যিনি চিন্তামণি রত্নে নির্মিত ধামে বিরাজমান, যেখানে অসংখ্য কল্পবৃক্ষ পরিবেষ্টিত রয়েছে। তিনি সুরভী গাভীদের পালন করেন এবং অসংখ্য  লক্ষ্মীদেবী গভীর ভক্তি ও সম্ভ্রমের সঙ্গে তাঁর সেবা করেন। বেণুং ক্বণন্তম্ অরবিন্দ-দলায়তাক্ষং বর্হাবতংসম্ অসিতাম্বুদ-সুন্দরাঙ্গম্ । কন্দর্প-কোটি-কমনীয়-বিশেষ-শোভং গোবিন্দং আদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥ আমি সেই আদিপুরুষ শ্রীগোবিন্দকে ভজনা করি, যিনি মধুর বেণুবাদন করছেন...

“মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali” অধ্যায় -৫

    "মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ " অধ্যায় -  ৫ মা-এর কথা যতই বলা হোক না কেন, সবসময়ই মনে হয় যেন এখনও অনেক কিছু বলা বাকি রয়ে গেল। কলম থেমে যায়, কিন্তু মায়ের মাহাত্ম্য কখনও শেষ হয় না। আরও অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা করে, কিন্তু আমি তো এক ক্ষুদ্র মানুষ—সেই আদ্যাশক্তির প্রকৃত ব্যাখ্যা আমি কীভাবেই বা করতে পারি? আমার ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা—সবকিছুই আমি মায়ের চরণে অর্পণ করেছি। আমি অতি সামান্য এক ভক্ত মাত্র। আর আমাদের পুরাণও বলে, মা সর্বদা তাঁর ভক্তের কাছেই বাঁধা থাকেন। ভক্তির বন্ধনই হল সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন। আজ যখন মা কামাখ্যা মন্দিরের নাটমন্দিরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন হঠাৎ যেন উপলব্ধি হচ্ছিল—আমি কে, কেন এসেছি, আর আমার জীবনের প্রকৃত করণীয় কী। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির মধ্যে যেন মা নিজেই আমার মনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন। সেই মুহূর্তে অনুভব করলাম, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হয়তো কেবল তাঁর শরণাগত হওয়া, তাঁর নাম স্মরণ করা, আর তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পণ করা। ভক্তি ছাড়া তাঁকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছুই নেই। তাই জানি না কতটা লিখতে পারলাম, বা আমার এই অনুভূতি আপনাদের হৃ...

“মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali” অধ্যায় -8

  "মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ " অধ্যায় - 8 মা কামাখ্যা এবং কামদেবের গল্প হিন্দু পুরাণ ও তন্ত্রশাস্ত্রের এক অত্যন্ত রহস্যময় ও গভীর আধ্যাত্মিক কাহিনি। এই কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রেম, ত্যাগ, শক্তি এবং পুনর্জন্মের রহস্য।  প্রাচীন পুরাণসূত্রে জানা যায়, Brahma যখন তাঁর মানসপুত্রদের সৃষ্টি করেন, তখন তাঁর মন থেকেই এক অপূর্ব সুন্দরী কন্যা ও এক বিশেষ পুরুষের আবির্ভাব ঘটে। সেই কন্যার নাম রাখা হয় “সন্ধ্যা” এবং সেই দিব্য পুরুষের নাম হয় “মদন” বা  কামদেব । মদন ছিলেন প্রেম, আকর্ষণ ও কামশক্তির দেবতা। তাঁর হাতে ছিল পুষ্পধনু ও পঞ্চবাণ, যার প্রভাবে দেবতা থেকে মানব—সকলের হৃদয়ে প্রেম ও মোহের সঞ্চার হতো। অন্যদিকে সন্ধ্যা ছিলেন সৌন্দর্য, লাবণ্য ও স্নিগ্ধতার প্রতীক। কথিত আছে, মদন প্রথমেই তাঁর কামবাণ ব্রহ্মার উপর নিক্ষেপ করেন। সেই বাণের প্রভাবে ব্রহ্মা কামে বশীভূত হয়ে নিজের মন থেকে সৃষ্ট সন্ধ্যার রূপে মোহিত হয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে শিব পদ্মযোনি ব্রহ্মাকে তিরস্কার করেন। মহাদেবের সেই তীক্ষ্ণ বাক্য ব্রহ্মাকে আত্মসমালোচনায় বাধ্য করে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ব্রহ্মা রুষ্ট হয়ে ক...

“মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali” অধ্যায় -৩

  "মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ "  অধ্যায় - ৩ “কামাখ্যা বরদে দেবী, নীল পর্বত বাসিনী, ত্বং দেবী জগৎমাতা, মাতৃযোনিমুদ্রে নমস্তূতে।” মা কামাখ্যাকে নিয়ে যতই আলোচনা করা হোক না কেন, তাঁর মহিমা কখনও সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। স্বয়ং মহাদেব তাঁর পঞ্চমুখ দিয়েও আদ্যাশক্তির গুণগান সম্পূর্ণ করতে পারেননি। সেখানে আমরা তো অতি ক্ষুদ্র মানুষ—মায়ের কৃপায় ধীরে ধীরে তাঁর তত্ত্বকে উপলব্ধি করার চেষ্টা মাত্র। কেমন লাগছে আপনাদের জানি না, তবে একটি বিষয় সত্য—যে কাজকে যথার্থ সম্মান দেওয়া হয় না, সেই কাজও কখনও প্রকৃত সম্মান লাভ করে না। তাই এই আদি মহাশক্তিপীঠের মাহাত্ম্য জানার আগে প্রয়োজন ভক্তি, শ্রদ্ধা ও অন্তরের পবিত্রতা। এই মহাপীঠকে চারিদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন দশ মহাবিদ্যা—আদ্যাশক্তির দশটি গূঢ় ও মহাশক্তিশালী রূপ। শাক্ত তন্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, মা কামাখ্যার মধ্যেই এই দশ মহাবিদ্যার শক্তি একত্রে বিরাজমান।                                           ...

“মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali” - অধ্যায় - ২

  মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ  অধ্যায় -  ২ জীবনের পথে কখনও কখনও এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না—সে কী করবে, কোথায় যাবে। চারপাশ যেন হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়, সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি গ্রাস করে মনকে। ঠিক সেই সময়েই কোথাও দূরে বেজে ওঠে মন্দিরের সুমধুর ঘণ্টাধ্বনি। কারও অন্তরের গভীর থেকে যেন ভেসে আসে এক অলৌকিক আশ্বাস— “ভয় পাচ্ছিস কেন রে? আমি তো আছি। যখন নিজেকে একা মনে হবে, তখন জেনে নিস মা তোর সঙ্গেই আছেন।” এই অনুভূতি আর কেউ নন—তিনি আদ্যাশক্তি, মহামায়া, জগৎজননী মা কামাখ্যা। যিনি শুধু একটি মন্দিরের দেবী নন, তিনি শক্তির উৎস, ভক্তের আশ্রয় এবং অন্তরের চিরন্তন মাতৃস্বরূপা। আমার জীবনেও ঠিক এমনই এক অভিজ্ঞতা ঘটেছিল। যখন আমি প্রথম মা কামাখ্যার মন্দিরে প্রবেশ করি, তখন মনে হয়েছিল যেন এক অদৃশ্য শক্তি সমস্ত ক্লান্তি, হতাশা ও অস্থিরতাকে দূর করে দিচ্ছে। মন্দিরের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনি, ধূপের গন্ধ, আর ভক্তদের “জয় মা কামাখ্যা” ধ্বনি—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অলৌকিক অনুভূতির সৃষ্টি করেছিল। মা কামাখ্যার এই পবিত্র ধামে আজও অসংখ্য রহস্য ও অলৌকিক ঘটনার ক...

২) “মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali”- অধ্যায় ১

  মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ  অধ্যায় ১ "কামাখ্যে কামসম্পন্নে কামেশ্বরী হরিপ্রিয়ে। কামনাং দেহি মে নিত্যং কামেশ্বরী নমোস্তুতে।।"   অসমের নীলাচল পর্বতের বুকে জাগ্রত রয়েছেন আদ্যাশক্তি মা কামাখ্যা। যুগ যুগ ধরে এই মহাশক্তিপীঠ অসংখ্য সাধক, তান্ত্রিক ও ভক্তের আরাধনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝখানে, পাহাড়-নদী-অরণ্যে ঘেরা এই পবিত্র ভূমি যেন এক জীবন্ত তন্ত্রক্ষেত্র।  ৫১টি শক্তি পীঠের মধ্যে একটিতে এবং ৪টি আদি শক্তি পিঠগুলির মধ্যে, কামাখ্য মন্দিরটি বিশেষ কারণ দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল এবং এইভাবে দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়। অসমের রাজধানী গুয়াহাটির পশ্চিমাংশে অবস্থিত নীলাচল পাহাড়ে রয়েছে কামাখ্যা মন্দির। এটি হিন্দু তথা তান্ত্রিকদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থল। এটি একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির। দেবী মহামায়া এই মন্দিরে কামাখ্যারূপে বিরাজমান। কামাখ্যা তীর্থক্ষেত্র একটি শক্তিপীঠ ও তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্র। এটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। কথিত আছে, এখানে সতীর দেহত্যাগের পর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে যোনি ছিন্ন ...

“চৌষট্টি যোগিনী কারা? ইতিহাস ও তান্ত্রিক গুরুত্ব”-

  || চৌষট্টি যোগিনী - রহস্যময় দেবীশক্তির ৬৪ রূপ  || চৌষট্টি যোগিনী (৬৪ Yogini) হলেন আদ্যাশক্তির চৌষট্টি ভিন্ন প্রকাশ। তন্ত্র ও শক্তসাধনায় তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, দেবী দুর্গা ও মহাকালীর অসীম শক্তি থেকেই এই যোগিনীদের আবির্ভাব।তাঁরা কেবল তন্ত্রের গূঢ় উপাসনার অংশ নন; বরং জ্ঞান, শক্তি, সাহস ও আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রতীক। তন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক : চৌষট্টি যোগিনী তন্ত্রসাধনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রাচীন সাধকেরা তাঁদের উপাসনার মাধ্যমে আত্মশক্তি জাগ্রত করা, মনকে সংহত করা এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভের চেষ্টা করতেন। কেন ‘৬৪’?  ভারতীয় সংস্কৃতিতে ৬৪ সংখ্যার বিশেষ তাৎপর্য আছে—৬৪ কলা, ৬৪ বিদ্যা, ৬৪ তন্ত্র। তাই চৌষট্টি যোগিনী প্রকৃতির অসংখ্য শক্তির প্রতীক। ভারতের বিখ্যাত চৌষট্টি যোগিনী মন্দির : Hirapur Chausathi Yogini Temple – ভারতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ যোগিনী মন্দিরগুলির একটি। Ranipur-Jharial Chausath Yogini Temple – প্রাচীন তান্ত্রিক সাধনাক্ষেত্র। Mitawali Chausath Yogini Temple – অনন্য বৃত্তাকার স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। Bhedaghat Chausath Yogini Temple – নর্...