"মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ " অধ্যায় -৩
মা কামাখ্যাকে নিয়ে যতই আলোচনা করা হোক না কেন, তাঁর মহিমা কখনও সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। স্বয়ং মহাদেব তাঁর পঞ্চমুখ দিয়েও আদ্যাশক্তির গুণগান সম্পূর্ণ করতে পারেননি। সেখানে আমরা তো অতি ক্ষুদ্র মানুষ—মায়ের কৃপায় ধীরে ধীরে তাঁর তত্ত্বকে উপলব্ধি করার চেষ্টা মাত্র। কেমন লাগছে আপনাদের জানি না, তবে একটি বিষয় সত্য—যে কাজকে যথার্থ সম্মান দেওয়া হয় না, সেই কাজও কখনও প্রকৃত সম্মান লাভ করে না। তাই এই আদি মহাশক্তিপীঠের মাহাত্ম্য জানার আগে প্রয়োজন ভক্তি, শ্রদ্ধা ও অন্তরের পবিত্রতা।
এই মহাপীঠকে চারিদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন দশ মহাবিদ্যা—আদ্যাশক্তির দশটি গূঢ় ও মহাশক্তিশালী রূপ। শাক্ত তন্ত্রে বিশ্বাস করা হয়, মা কামাখ্যার মধ্যেই এই দশ মহাবিদ্যার শক্তি একত্রে বিরাজমান।
-মুণ্ডমালা তন্ত্র
দশ মহাবিদ্যা হল সনাতন ধর্মের শাক্ত সম্প্রদায় ও তন্ত্রসাধনায় পূজিত দেবী পার্বতীর দশটি দিব্য রূপ, যা সৃষ্টি, পালন, সংহার, জ্ঞান, সময়, শক্তি ও মুক্তির প্রতীক। ‘মহাবিদ্যা’ শব্দের অর্থ—পরম জ্ঞান, দিব্য চেতনা বা মহাশক্তির উপলব্ধি।
দশ মহাবিদ্যার নাম-
কালী, তারা, ষোড়শী / ত্রিপুরাসুন্দরী, ভুবনেশ্বরী ,ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী, কমলা।
এই প্রতিটি বিদ্যা এক একটি তত্ত্ব, এক একটি শক্তির প্রকাশ। কোথাও তিনি করুণা, কোথাও সংহার, কোথাও জ্ঞান, কোথাও আবার মোক্ষের পথপ্রদর্শক। তন্ত্র মতে, এটি একটি মন্দির নয়—মহাশক্তির জীবন্ত কেন্দ্র, যেখানে দশ মহাবিদ্যার চেতনা আজও স্পন্দিত।
পরবর্তী অংশ
মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ " অধ্যায় - 8

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন