সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শরতে জাগ্রত চণ্ডী

|| শরতে জাগ্রত চণ্ডী || দূর থেকে অপার এক সৌন্দর্য, যা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই বড় কঠিন। পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে নীল আকাশ জুড়ে, কাশফুলের শুভ্র ঢেউ যেন প্রকৃতির নিজস্ব অলংকার হয়ে উঠেছে। দূর দিগন্তের ওপার থেকে খুব ধীরে ধীরে ভেসে আসছে ঢাকের বাদ্য—সুমিষ্ট শরতের বাতাসের সঙ্গে মিশে সেই সুর এসে নিঃশব্দে স্পর্শ করে যায় হৃদয়কে। মনে করিয়ে দেয় সেই প্রাচীন রাজবাড়ির কথা, যেখানে প্রতি বছর মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয় দেবী চণ্ডীর পূজা। সময়ের বহু অধ্যায় পেরিয়েও আজও যেন সেই রাজবাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি অলিন্দ বহন করে চলেছে ইতিহাসের গন্ধ। সন্ধ্যার আলোর মৃদু আভায় যখন রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে একে একে জ্বলে ওঠে প্রদীপ, তখন মনে হয় যেন অতীত আর বর্তমান মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনির পবিত্র সুরে আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে চারপাশ হয়ে ওঠে এক অলৌকিক অনুভূতির আধার। দেবী চণ্ডী হিন্দু ধর্মে শক্তির এক মঙ্গলময় রূপ হিসেবে পূজিতা। তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়ারই এক প্রকাশ, যিনি অসুর শক্তির বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত “শ্রীশ্রী চণ্ডী” বা “দে...

ব্রহ্মসংহিতা- Brahma Samhita Slokas

  ব্রহ্মসংহিতা আজকে আমি আপনাদের সামনে আনতে চলেছি ব্রহ্মসংহিতা -তে উল্লিখিত এক অপূর্ব মধুর শ্লোক— “ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ । অনাদিরাদির্ গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্ ॥” পরম ঈশ্বর হলেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর দিব্য রূপ সৎ (চিরন্তন), চিৎ (চেতনাময়) এবং আনন্দময়। তিনি অনাদি, অর্থাৎ তাঁর কোনো শুরু নেই; অথচ তিনিই আবার সকল সৃষ্টির আদি কারণ। সেই গোবিন্দই সমগ্র জগতের “সর্বকারণের কারণ” — সমস্ত সৃষ্টি, শক্তি ও অস্তিত্বের মূল উৎস। চিন্তামণি-প্রকর-সদ্মসু কল্পবৃক্ষ- লক্ষাবৃতেষু সুরভীরভিপালয়ন্তম্ । লক্ষ্মী-সহস্র-শত-সম্ভ্রম-সেব্যমানং গোবিন্দং আদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥ আমি সেই আদিপুরুষ শ্রীগোবিন্দকে ভজনা করি, যিনি চিন্তামণি রত্নে নির্মিত ধামে বিরাজমান, যেখানে অসংখ্য কল্পবৃক্ষ পরিবেষ্টিত রয়েছে। তিনি সুরভী গাভীদের পালন করেন এবং অসংখ্য  লক্ষ্মীদেবী গভীর ভক্তি ও সম্ভ্রমের সঙ্গে তাঁর সেবা করেন। বেণুং ক্বণন্তম্ অরবিন্দ-দলায়তাক্ষং বর্হাবতংসম্ অসিতাম্বুদ-সুন্দরাঙ্গম্ । কন্দর্প-কোটি-কমনীয়-বিশেষ-শোভং গোবিন্দং আদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥ আমি সেই আদিপুরুষ শ্রীগোবিন্দকে ভজনা করি, যিনি মধুর বেণুবাদন করছেন...

“মা কামাখ্যা মন্দিরের রহস্য | Kamakhya Temple Mystery in Bengali” অধ্যায় -৫

    "মা কামাখ্যা - আদ্যাশক্তির মহাশক্তিপীঠ " অধ্যায় -  ৫ মা-এর কথা যতই বলা হোক না কেন, সবসময়ই মনে হয় যেন এখনও অনেক কিছু বলা বাকি রয়ে গেল। কলম থেমে যায়, কিন্তু মায়ের মাহাত্ম্য কখনও শেষ হয় না। আরও অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা করে, কিন্তু আমি তো এক ক্ষুদ্র মানুষ—সেই আদ্যাশক্তির প্রকৃত ব্যাখ্যা আমি কীভাবেই বা করতে পারি? আমার ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা—সবকিছুই আমি মায়ের চরণে অর্পণ করেছি। আমি অতি সামান্য এক ভক্ত মাত্র। আর আমাদের পুরাণও বলে, মা সর্বদা তাঁর ভক্তের কাছেই বাঁধা থাকেন। ভক্তির বন্ধনই হল সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন। আজ যখন মা কামাখ্যা মন্দিরের নাটমন্দিরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন হঠাৎ যেন উপলব্ধি হচ্ছিল—আমি কে, কেন এসেছি, আর আমার জীবনের প্রকৃত করণীয় কী। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির মধ্যে যেন মা নিজেই আমার মনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন। সেই মুহূর্তে অনুভব করলাম, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হয়তো কেবল তাঁর শরণাগত হওয়া, তাঁর নাম স্মরণ করা, আর তাঁর চরণে নিজেকে সমর্পণ করা। ভক্তি ছাড়া তাঁকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছুই নেই। তাই জানি না কতটা লিখতে পারলাম, বা আমার এই অনুভূতি আপনাদের হৃ...