সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

১ ) উৎকলে দেবী বিমলা ; আদিমহাশক্তিপীঠ

  ||  উৎকলে দেবী বিমলা- নীলাচলের আদিমহাশক্তিপীঠ || "বিমলা তু মহাদেবী, জগন্নাথস্তু ভৈরব:" নীলাচলে অপরূপ সমুদ্রতটে , এক আদিমহাশক্তিপীঠ , যা যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস , শ্রদ্ধা ও ভক্তির অক্ষয় আলোকবর্তিকা হয়ে জাগ্রত। পীঠ নির্ণয় তন্ত্র, 'তন্ত্রচূড়ামণি'  হলো হিন্দু শাক্ত তন্ত্র বা তন্ত্র দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রামাণ্য গ্রন্থ । এই গ্রন্থে মূলত   দেবী সতী র নাভি (কিছু মতে পদতল) পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই উৎকলে দেবী বিমলার শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ভক্তসমাজে প্রচলিত। এই মন্দির শাক্ত ও বৈষ্ণব সাধনার এক বিরল মিলনক্ষেত্র। পুরীর ধর্মীয় ঐতিহ্যে দেবী বিমলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  করুণাময়ী দেবী বিমলা ভক্তদের কাছে শান্তি , সাহস ও অন্তরশক্তির আধার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অসংখ্য তীর্থযাত্রী তাঁর চরণে প্রার্থনা জানিয়ে মানসিক আশ্রয় ও আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা লাভ করেছেন। দেবীর রূপ   ও  ভৈরব -  দেবী বিমলা করুণাময়ী , রক্ষাকর্ত্রী এবং অন্তর্নিহিত শক্তির প্রত...
|| আজকের জীবনে শক্তিপীঠের সঙ্গে সম্পর্ক ||  শক্তিপীঠের মূল কাহিনি হলো শোক , বিচ্ছেদ এবং পুনর্গঠন। সতীর দেহত্যাগ, মহাদেবের গভীর শোক, সেই শোক থেকে নতুন তীর্থের সৃষ্টি,   মানুষের জীবনেও সম্পর্কভঙ্গ , মৃত্যু , ব্যর্থতা বা মানসিক আঘাত আসে। শক্তিপীঠের কাহিনি মনে করিয়ে দেয় জীবনের ভাঙনও নতুন অর্থ , শক্তি এবং আত্মজাগরণের উৎস হতে পারে। আবার অন্য দিকে আমরা দেখতে পাই ... “ শক্তি ” মানে সৃষ্টিশীল শক্তি , সাহস , জ্ঞান , করুণা ও রূপান্তরের ক্ষমতা। শক্তিপীঠ আমাদের মনে করায় যে নারীত্ব কেবল সামাজিক ভূমিকা নয় ; তা মহাজাগতিক শক্তির প্রতীক। তাই নারী সম্মান, নারী শিক্ষা , আত্মমর্যাদা , সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব থাকা খুব জরুরি। পরিশেষে বলা বাহুল্য , আজকের জীবনে শক্তিপীঠের গুরুত্ব মূলত আধ্যাত্মিক , প্রতীকী এবং সাংস্কৃতিক। এগুলিকে কেবল একটি পৌরাণিক ঘটনার স্মারক হিসেবে নয় , বরং মানুষের অন্তর্জীবনের গভীর সত্যের প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। একই সঙ্গে শক্তিপীঠের দর্শন নারীত্বকে মহাশক্তির রূপে প্রতিষ্ঠা করে। এ...
  শিবপুরাণ অনুযায়ী দক্ষযজ্ঞের কাহিনি শিব পুরাণ অনুযায়ী শক্তিপীঠের সৃষ্টি শুধুমাত্র সতীর দেহাংশ পতনের একটি পৌরাণিক ঘটনা নয় ; এটি গভীর তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে। শক্তিপীঠ কেবল ভৌগোলিক স্থান নয় ; এগুলি দেবীশক্তির প্রকাশকেন্দ্র। সতীর দেহের প্রতিটি অংশ মহাশক্তির বিভিন্ন রূপকে প্রতীকীভাবে প্রতিষ্ঠা করে। শক্তি ও শিব অবিচ্ছেদ্য, শিব চেতনার পরম তত্ত্ব , আর দেবী সতী সেই চেতনার শক্তিরূপ।   শিব   ও   শক্তি   পরস্পর   অবিচ্ছেদ্য। শিবপুরাণে বর্ণিত আছে যে, প্রজাপতি দক্ষ ব্রহ্মার মানসপুত্র এবং অত্যন্ত অহংকারী ছিলেন। তাঁর কন্যা সতী, মহাদেব শিবকে স্বামীরূপে গ্রহণ করলেও দক্ষ কখনও শিবকে সম্মান করতেন না। কারণ শিব ছিলেন বৈরাগী, ভস্মমণ্ডিত, অলৌকিক স্বভাবের দেবতা— যা দক্ষের রাজসিক অহংকারের সঙ্গে মেলে না। একসময় প্রজাপতি দক্ষ এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করেন। সেই যজ্ঞে দেবতা, ঋষি ও গন্ধর্বসহ সকলকে নিমন্ত্রণ করা হয়, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে শিব ও সতীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কৈলাসে বসে দেবী সতী যখন দেবতাদের যজ্ঞে যেতে দেখলেন, তখন তাঁ...