|| উৎকলে দেবী বিমলা- নীলাচলের আদিমহাশক্তিপীঠ ||
"বিমলা তু মহাদেবী, জগন্নাথস্তু ভৈরব:"
নীলাচলে অপরূপ সমুদ্রতটে, এক আদিমহাশক্তিপীঠ, যা যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভক্তির অক্ষয় আলোকবর্তিকা হয়ে জাগ্রত। পীঠ নির্ণয় তন্ত্র, 'তন্ত্রচূড়ামণি' হলো হিন্দু শাক্ত তন্ত্র বা তন্ত্র দর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রামাণ্য গ্রন্থ। এই গ্রন্থে মূলত দেবী সতীর নাভি (কিছু মতে পদতল) পতিত হয়েছিল। সেই থেকেই উৎকলে দেবী বিমলার শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ভক্তসমাজে প্রচলিত।
এই মন্দির শাক্ত ও বৈষ্ণব সাধনার এক বিরল মিলনক্ষেত্র। পুরীর ধর্মীয় ঐতিহ্যে দেবী বিমলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেবীর রূপ ও ভৈরব-
দেবী বিমলা করুণাময়ী, রক্ষাকর্ত্রী এবং অন্তর্নিহিত শক্তির
প্রতীক। তিনি ভক্তদের কাছে
অশুভনাশিনী ও মনোবাঞ্ছাপূরণকারী মাতৃরূপে পূজিতা।
মহাপ্রসাদের বিশেষ তাৎপর্য -
পুরীর ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশে নিবেদিত ভোগ দেবী বিমলাকে
নিবেদন করার পরই তা
‘মহাপ্রসাদ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই রীতি শাক্ত
ও বৈষ্ণব উপাসনার গভীর ঐক্যকে প্রতিফলিত
করে।
মন্দিরের বিশেষ তাৎপর্য - দেবী বিমলাকে কেন্দ্র করে পুরীর নিত্যসেবার একটি অনন্য ধর্মীয় প্রথা আজও সমান শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। শ্রীজগন্নাথ মন্দির ভোররাতে খোলার আগেই দেবী বিমলার মন্দিরে প্রাতঃসেবার সূচনা হয়। এরপর শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত করা হয় এবং মঙ্গলারতি ও অন্যান্য নিত্যকর্ম সম্পন্ন হয়।
প্রাতঃস্নান ও পূজার পর ভগবান কে ভোগ নিবেদন করা হয়। এই ভোগ দেবী বিমলার কাছে নিবেদন করার পরই ‘মহাপ্রসাদ’-এর মর্যাদা লাভ করে—যা পুরীর ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মধ্যাহ্নভোগের পর কিছু সময়ের জন্য মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকে। বিকেলে পুনরায় দর্শনের জন্য মন্দির খোলা হয় এবং সন্ধ্যারতি, ধূপ ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
রাত্রিতে শয়নবিধির আগে ভগবানকে বিশেষভাবে পান নিবেদন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই নিবেদিত পান দেবী বিমলার মন্দিরে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দেবী তা গ্রহণ করেন। এরপর শ্রীজগন্নাথের শয়ন সম্পন্ন হলে দেবী বিমলাকেও শয়ন দেওয়া হয়। সব আচার শেষ হলে মন্দিরের দ্বার রাত্রির জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন